সুনামগঞ্জ , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ , ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই কিশোর আটক জন্মজয়ন্তীতে কবি নজরুল ইসলামকে স্মরণ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‌্যালি গাছের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কায় শ্রমিক নিহত, অটোরিকশার চাপায় প্রাণ গেল ৬ বছরের শিশুর পুশইনে মরিয়া বিএসএফ, সীমান্তে উত্তেজনা মে মাসে গণপিটুনি ও সহিংসতায় নিহত ৩১, ধর্ষণের শিকার ৮৩ নারী ও শিশু বাদাম চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালেও ফলন নিয়ে শঙ্কা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে ছাড় দেওয়া হবে না ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অনিয়ম, ক্ষোভে ফুঁসছেন বঞ্চিতরা টাঙ্গুয়ার হাওরে নিভে গেল ছোট্ট সৌম্যতার জীবনপ্রদীপ তাহিরপুরে ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভায় এমপি কামরুল মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা

২০ বছরেও হয়নি সেতুর সংযোগ সড়ক, এমন প্রহসন বন্ধ করুন

  • আপলোড সময় : ২১-০৪-২০২৬ ০২:০৪:২৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-০৪-২০২৬ ০৯:২৩:৩৭ পূর্বাহ্ন
২০ বছরেও হয়নি সেতুর সংযোগ সড়ক, এমন প্রহসন বন্ধ করুন
দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের উত্তর বক্তারপুর-নয়াগাঁও সংযোগে নির্মিত একটি সেতু ২০ বছর ধরে অচল পড়ে থাকার খবর নিছক অবহেলার নয়, এটি উন্নয়ন পরিকল্পনার দুর্বলতা, প্রশাসনিক গাফিলতি এবং জনগণের প্রতি দায়িত্বহীনতার একটি স্পষ্ট ছবি। একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, অথচ দুই পাশে সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ) না থাকায় সেটি ব্যবহার অনুপযোগী - এমন বাস্তবতা শুধু বিস্ময়কর নয়, তা দুঃখজনকও। সেতু কোনো বিচ্ছিন্ন অবকাঠামো নয়; এটি যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি পূর্ণাঙ্গ অংশ। অ্যাপ্রোচ ছাড়া সেতু মানে ভিত্তিহীন স্থাপনা। প্রশ্ন জাগে, যে প্রকল্পে মূল সেতু নির্মাণ স¤পন্ন হয়েছে, সেখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়টি কেন উপেক্ষিত রইল? কার পরিকল্পনায় এই অস¤পূর্ণতা, কার দায়িত্বে এই দীর্ঘসূত্রতা - তা খতিয়ে দেখা জরুরি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, দুই দশক ধরে হাজারো মানুষের ভোগান্তি চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। বক্তারপুর, নয়াগাঁও, ভাঙাপাড়া, ইদ্রিছপুর ও জিরারগাঁওসহ বিস্তীর্ণ জনপদের মানুষ সম্ভাব্য যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। একটি চালু সেতু যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবায় নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারত। কিন্তু অব্যবস্থাপনার কারণে সেটি আজ ‘অচল উন্নয়নের স্মারক’ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে শুধু অর্থ বরাদ্দ বা কাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা, জবাবদিহি এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। একটি সেতু নির্মাণ করে তাকে অকার্যকর ফেলে রাখা মানে জনগণের অর্থ অপচয় এবং উন্নয়নের নামে প্রহসন। উপজেলা প্রকৌশলীর বক্তব্যে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার আশ্বাস এসেছে, এটি ইতিবাচক। তবে জনগণ আর আশ্বাস নয়, কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায়। দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে অ্যাপ্রোচে মাটি ভরাট, সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি কেন ২০ বছরেও কাজ স¤পন্ন হয়নি, সে বিষয়ে তদন্ত করে দায় নিরূপণও প্রয়োজন। উন্নয়ন তখনই অর্থবহ, যখন তা মানুষের জীবনে বাস্তব সুফল বয়ে আনে। দোয়ারাবাজারের এই অচল সেতু আমাদের মনে করিয়ে দেয় - অস¤পূর্ণ উন্নয়ন প্রকৃত উন্নয়ন নয়। এখনই সময় এই দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স